একজন শিল্পী, হোক সে গায়ক, অভিনেত্রী, চিত্রকর বা লেখক, সে তার জীবদ্দশায় মানুষকে যে শিল্পকর্ম উপহার দিয়ে যায়, তা কখনো অর্থমূল্যে পরিমাপ করা সম্ভব নয়। চিত্রকরের আঁকা ছবি বা গায়কের গাওয়া গান আপনি অর্থের বিনিমেয় নিতে পারেন, তবে তাকে বিনিময় মূল্য বলাটা এক রকম বোকামি, যেমনটা শিক্ষকের থেকে শিক্ষা অর্জনের জন্য অর্থ দিলেও তাকে শিক্ষার মূল্য বলা চলে না।
শিল্পীর সার্থকতা হচ্ছে এমন শিল্পকর্ম তৈরি করা যা তাকে মানুষের মাঝে অমরত্ব দিতে পারবে। উদাহরণ স্বরূপ বলতে পারি লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চির (১৫ এপ্রিল, ১৪৫২-২ মে, ১৫১৯) আঁকা ছবি বা মাইকেল জ্যাকসনের (আগস্ট ২৯, ১৯৫৮-জুন ২৫, ২০০৯) নাচ-গান কিংবা বাংলাদেশের মান্না-সালমান শাহের অভিনয়ের কথা। তারা মরে গেছে ঠিকই, কিন্তু তাদের তৈরি শিল্পের জন্য তারা আজও মানুষের কাছে তুমুল জনপ্রিয়।
আচ্ছা, আপনার কি মনে হয় আমাদের বিখ্যাত মডেল নাইলা নাইম বা জ্যাকুলিন মিথিলা কিংবা বিপিএল সুন্দরী আমব্রিন ধাঁচের শিল্পীরা আমাদের যে ধরনের শিল্পকর্ম(!) উপহার দিচ্ছে, তাতে মানুষ তাদেরকে শাবানা-ববিতাদের মত করে মনে রাখবে? উত্তরটা হচ্ছে, মরে যাওয়া দূরে থাক, এদের চামড়ায় বার্ধক্যের রেখা পরার আগেই মানুষ এদেরকে ভুলে যাবে।
কারণটা খুব সোজা। বলতে দ্বিধা নেই এদের শিল্পকর্ম হচ্ছে এদের শরীরের ভাঁজ দেখানো। মানুষ হয়তো আজ এদের শরীর দেখে বিনোদিত হবে, কাল অন্য কেউ আরও বেশি রগরগে ভাবে নিজের শরীরকে উপস্থাপন করে তাদের উপরে জনপ্রিয়তা তৈরি করে নিবে। শিল্পী স্বত্বা যেটাকে বলা হয়, যা কিনা একজন শিল্পীকে নিজের স্বকীয়তা দান করে, অন্য সবার চাইতে তাকে আলাদা করে তুলে, তার বিন্দুমাত্র ছিটফোঁটা কিন্তু এদের নেই!
চারদিকে নামীদামী, বাহারি রং-ঢংয়ের শিল্পীর ছড়াছড়ি যে মানুষ আজ প্রকৃত শিল্পীদের ভুলেই যাচ্ছে। শিল্পের কদর কমে যাচ্ছে। হয়তো এই কারণেই ইদানীং প্রায়ই শুনতে হয় “অমুক শিল্পী মৃত্যু সজ্জায় চিকিৎসার অভাবে কাতরাচ্ছে, সাহায্যের কেউ নেই…”
হেমন্ত কুমার মুখোপাধ্যায়ের (১৯৩৫-১৯৮৯) “আমি দূর থেকে তোমারেই দেখেছি, আর মুগ্ধ হয়ে চোখে চেয়ে থেকেছি…”, গানটা নিশ্চয়ই শুনেছেন? আচ্ছা, গানটা কি আপনার আপনার ভালো লাগে? আমার মনে হয় ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ উত্তর দিবে হ্যাঁ, আর এই লেখা পড়ার পর অনেকেই গানটি আরও একবার শুনবেন! আসলে শিল্পীর সার্থকতা এখানেই! যুগের পরে যুগ পেরিয়ে গেছে, কিন্তু সেই গান এখনও মানুষের মনে গেঁথে আছে। অথচ প্রতিদিন কত গান শুনেন যেগুলো একবার শুনলে আর দ্বিতীয়বার শুনতে ভালো লাগে না… পার্থক্যটা এখানেই…
Reference: Wikipedia, IMDB
