“আমি তো একদিন ধনী হয়েই যাব, গাড়িটা আজকে নিয়ে যাই, টাকা না হয় ধনী হওয়ার পরে দিয়ে দিবো।”
কোন গাড়ির শো-রুমে গিয়ে যদি একথা বলেন, আপনাকে কি গাড়িটি দিয়ে দিবে? দিবে না, কারন আপনি ধনী হবেন কি না হবেন, সে ব্যাপারে কোন নিশ্চয়তা নেই। ভবিষৎতে আপনি ধনী হবেনই, এর পিছে আপনি যতই জোড়ালো যুক্তি দেখান না কেন, “আমি ইন্জিনিয়ারিং পড়ি, ডাক্তারী পড়ি, ভবিষৎতে আমি ডাক্তার ইন্জিনিয়ার হয়ে অনেক টাকা উপার্জন করবো।” তারা তা শুনবে না। ওদের চাই নগদ টাকা।
“বাবুনী, আমরা তো বিয়ে করেই ফেলবো। বিয়ের পরে শারীরিক সম্পর্ক করতে পারলে এখন করলে সমস্যা কোথায়? এখন হলেও তুমি আমার, পরে হলেও তুমি আমার।”
মেয়েরা সব সময় এই যুক্তিটার কাছেই হেরে যায়। আসলেই তো, বিয়ের পরে করতে পারলে এখন করতে সমস্যা কোথায়? সমস্যা আছে, ঠিক গাড়ির শো-রুমের ঘটনাটির মতই। আপনি যে তাকে আদৌ বিয়ে করবেন, তার কি নিশ্চয়তা আছে? হোক না দু’জন দু’জনকে অনেক ভালোবাসেন, কিন্তু পরিস্থিতি বদলাতে কতক্ষণ? মেয়েটাকে বিয়ে করার আগেই যদি আপনার জন্মদাতা পিতা মৃত্যু সজ্জায় আপনার হাতে অন্য কোন মেয়েকে তুলে দিয়ে যায়, আপনি কি পারবেন সে মেয়ের হাত ছেড়ে দিতে? অথবা আপনি তো বেকার, যদি মেয়েটার পরিবার তাকে জোড় করে অন্য কোথাও বিয়ে দিয়ে দিতে চায়, আপনি কি পারবেন সে বিয়ের আসরে গিয়ে তার হাতটা ধরতে? পারবেন না।
এ তো গেল সব কঠিন সত্যের কথা। এরপর যদি আপনি নিকৃষ্ট সত্যের দিকে তাকান, আমাকে বলতে পারবেন শতকরা কতটা ভালোবাসার সম্পর্ক পূর্ণতা পায়? তার চাইতেও গভীরে তাকালে, বিয়ের আগে যে প্রেমিক-প্রেমিকা শরীরের ভালোবাসার স্বাদ পেয়ে গিয়েছে, তাদের মধ্যে শতকরা কতটা সম্পর্ক পূর্ণতা পায়? পূর্ণতার হিসেব করলে সে সংখ্যা খুবই নগন্য, নিতান্তই হতে গোনা কয়েকটা। তাহলে বেশির ভাগ সম্পর্ক ভেঙে যাচ্ছে কেন? কারন দু’পক্ষের এক পক্ষ এখানে প্রতারনা করছে। যার কাছে প্রেম মানেই সময়ক্ষেপন, নিত্য নতুন শরীরের স্বাদ গ্রহন করা।
আপনি নিশ্চিত করে বলতে পারবেন যে আপনি প্রতারিত হবেন না? প্রতারনার প্রেমের গল্প গুলোর শুরু কিন্তু আপনার প্রেমের মতই ছিল। দুষ্টু-মিষ্ট ঝগড়া, ভালোবাসা, প্রতি মূহুর্তে অনুভব করা। সেই প্রতারনার প্রেমের গল্পের সাথে আপনার প্রেমের গল্প মিলালে কোন পার্থক্যই খুঁজে পাবেন না, শুধু সম্পর্কটা ভাঙার মূহুর্তটি ছাড়া। তাহলে আপনি কিভাবে বিশ্বাস করেন যে ভবিষৎতে আপনার প্রেমও সেই জঘন্যতার সারিতে পরবে না?
তাহলে কি আপনি আপনার প্রেমিককে বিশ্বাস করবেন না? অবশ্যই করবেন, যতক্ষন না এই বিয়ের আগে অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক করতে চাইছে। দেখেন, যে মেয়েটা আজ প্রেম বিচ্ছেদের অনলে পুড়ছে, যার নোংরা ভিডিওটি আজ পর্ণোগ্রাফিক ওয়েব সাইটে পাওয়া যাচ্ছে, যে সমাজে মুখ দেখাতে না পেরে আত্মহত্যা করছে, সেও কিন্তু তার প্রেমিককে আপনার মতই বিশ্বাস করতো। আর সে বিশ্বাসের বিনিময়ে আজ সে কি পেল? আপনার অবস্থা যে এমন হবে না তার কি নিশ্চয়তা আছে?
ইসলামের কথা বললে, আপনি জানেন কি, বাসর ঘরে মোহরানা আদায় করার আগ পর্যন্ত বউকে স্পর্শ করা হারাম? আর সেখানে আপনি কিভাবে শুধু প্রেমের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সব বিলিয়ে দেন?
একটু সতর্ক হোন, নয়তো এমন পরিস্থিতিতে আপনিও পরতে পারেন। যার গ্লানি আপনাকে আজীবন বয়ে বেড়াতে হবে এমনকি জীবনটাকে স্বেচ্ছায় শেষ করে দেয়ার পথেও নিয়ে যেতে পারে।
