সেদিন দুই প্রেমিক-প্রেমিকা ঘোষনা দিলেন,
“ভালোবাসা দিবসে পুলিশি পাহারায় প্রকাশ্য চুমু খাবো।”
শুধু এই নিজেরা চুমু খাবো ঘোষনা দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, সকল প্রেমিক-প্রেমিকা জুটিকেও তাদের মত প্রকাশ্যে চুমু খাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। আর তা নিয়ে কত হইচই, মূহুর্তের মধ্যেই সেই দু’জন হয়ে গেলেন পরিচিত মুখ।
“প্রকাশ্যে চুমু খাওয়া অশ্লীলতা না, ইউরোপ আমেরিকাতে এটা কোন ব্যপারই না” যারা বলে, তাদের শুধু এটুকুই বলার যে, এটা ইউরোপ বা আমেরিকা নয়। এটা বাংলাদেশ। ইউরোপ বা আমেরিকার সংস্কৃতি আমরা কেন অনুকরন করবো? যদি ওদেরকেই অনুকরন করতে হয় তবে কেন আমরা ১৯৫২ তে রক্ত দিয়ে বাংলা ভাষা সংস্কৃতি রক্ষা করেছিলাম? তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানী উর্দূ ভাষাকে কেন মেনে নেইনি? কারন আমরা বাঙালী, আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে আমরা ভালোবেসেছি।
আমি যতদূর জানি, আমাদের দেশে চলচিত্র সেন্সরবোর্ড নামে একটা সংস্থা চলচিত্রের অশ্লীলতা সেন্সর করে। আমি জানি না তাদের কাছে চলচিত্রে অশ্লীলতার সহনীয় মাত্রা ঠিক কতটুকু। কিন্তু, রাস্তার প্রকাশ্য এই চুমু খাওয়ার মত অশ্লীলতাকে সেন্সর করবে কোন বোর্ড?
ভারত নাকি ভালোবাসা দিবসে যারা প্রকাশ্যে চুমু খাবে তাদের গ্রেফতার করবে। বাংলাদেশেও এমন কোন নির্দেশনা চালু করা দরকার।
কোথায় হে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি, বাঙালী জাতির অভিভাবকেরা, আজ তো বাঙালী সংস্কৃতি যায়-যায়, রক্ষা কি করবে? না-কি এই তোমাদের বাংলাদেশ, বাঙালী ঐতিহ্য প্রীতির আসল পরিচয়?
