-পর্দা নাই তাই সমাজ খারাপ হচ্ছে।
-কি বলেন ভাই, স্কুল-কলেজের বেশিরভাগ মেয়েই তো বোরকা পরে।
কি ভাই, বোরকাটাই কি পর্দা হয়ে গেল? আসলে আমরা বিশাল এক ফেতনায় পড়েছি। শয়তান আমাদের এতো দিক দিয়ে, এতো ভাবে ধোঁকা দিচ্ছে আপনি চিন্তাও করতে পারবেন না। একটু খেয়াল করে দেখবেন, আপনি পানি খাওয়ার সময় বাম হাতে গ্লাস নিয়ে এক চুমুকে খাচ্ছেন। অথচ আপনি ডান হাতে নিয়ে এই পানি টুকুই ৩ চুমুকে খেলে নেকি অর্জন করতেন। ঠাণ্ডা পানীয় কিনেছেন, সেটা খাচ্ছেন কোথায়? রাস্তায় হেটে হেটে। আপনি জানেন যে এখানে আপনি সওয়াব পেতেন, কিন্তু সেই সওয়াবের সময়টুকু কখন কিভাবে গেছে, টের পাননি। শয়তানের ফাঁদটা এমন নিখুঁত। আচ্ছা ছিলাম পর্দায়। বোরকাটা এখন হালের ফ্যাশন হয়ে গেছে। কিছু ফ্যাশন ডিজাইনার বোরকার ডিজাইন করছে এমন ভাবে, যেন তা ছেলেদের আকর্ষণ করে। ভেঙ্গে বলি, বোরকার নক্সাটা এমন ভাবে করা হবে যেন মেয়েদের বিশেষ আকর্ষণ গুলো আরও আকর্ষণীও হয়ে উঠে। আর বোরকা গুলো এতটাই টাইট হয় যে পুরো শরীরের গঠন স্পষ্ট বুঝা যায়। অথচ এমন পোশাক পরিধান করতে বলা হয়েছে যেটা ঢোলা হবে এবং শরীরের গঠন টা বুঝা না যায়। আবার থ্রি-কোয়াটার বোরকা। যার সাথে চুষ! ঐ গুলো গায়ের সাথে এতটাই লেগে থাকে যে যদি চামড়ার রঙেরটা কেউ পরে, তবে কিছু পরেছে কি পরে নাই, সেটাই বুঝা যায় না। পোশাক পড়ার মানে এই না যে এটা শরীর আর প্রকৃতির মাঝে শুধুই একটা দেয়াল। যদি দেয়ালই হতো, তবে এটা না দিলেও চলত। এখন সবাই মনে করছে একটা দেয়াল দিলেই হল, দেয়াল আর আসবাব পত্রের মাঝে ফাঁকা জায়গা রাখার দরকার কি? আপনার ঘরের দেয়াল আর আসবাব পত্রের মাজে যদি কোন ফাঁকা জায়গা না রাখেন, তবে আপনি হাঁটবেন, থাকবেন কোথায়? নাকি আপনার জামা আর শরীরের মাঝে পিঁপড়ে চলাচল করবে তাই ফাঁকা রাখেন নাই? দুনিয়াতে আপনি যদি এই পিঁপড়ে চলাচলের জায়গা না রাখেন, তবে জেনে রাখুন, আখিরাতে আরও বড় পিঁপড়ে ঘুরবে! আকর্ষণে ছিলাম। একটা মেয়ে যদি একটা ছেলেকে আকর্ষিত করতে পারে, তবে ছেলেটা কেন আকর্ষিত হবে না? বলবেন যে দেখলেই উত্তেজিত হবে কেন? সোজা বাংলায়, “যৌনতা মানুষের সহজাত ধর্ম। যেটা পৃথিবীতে আছে, থাকবে এমন কি জান্নাতেও থাকবে” তাই ছেলেরা উত্তেজিত হবেই। আর বলবেন যে তাকায় কেন? ঠিক আছে, ছেলেরা যদি না তাকায়, তাহলে আপনার পোশাক পরলেই কি আর না পরলেই কি!! আপনাদের দেখে তো আর গরু-ছাগল উত্তেজিত হবে না তাই না? হতেও পারে, যেই যুগ! কিছু কিছু জায়গায় তো প্রাণীদের কেই মানুষ সঙ্গী করতে মানুষ ভরসা করে। মানুষের মাঝে তো এইডস নামের একটা বিষয় আছে। আমদের দেশটা ইসলামিক দেশ, (ধর্ম নিরপেক্ষতা মানে এই না যে এদেশে সব ধর্মের লোক সমপরিমাণে বাস করে) কিন্তু আমদের দেশটা কিভাবে চলছে বুঝতে পারছেন? আমারা আমেরিকার মত হয়ে যাচ্ছি যার খ্রিস্টান বলে গর্ববোধ করে। কেন? আমরা মুসলমান, আমরা ওদের দেখে কেন শিখব? (ওদের অনেক ভালো বিষয় আছে যেটা আমরা শিখি না। শৃঙ্খলা, শান্তি, ঐক্য আরও অনেক কিছু) আমদের থেকে কি ওরা শিখতে পারে না? আমরা ওদের নকল করছি, কেন জানেন? ইংলিশ আর হিন্দি সিনেমা দেখে। তারকাদের মত আমাদের ও ইচ্ছা জাগে ঐ জামাটা পরলে ওকে কি যে লাগতিসে না! আমি ও পরবো! শুরুটা এখানেই আর শেষটা হয়তো কোন বন্ধুর ঘরে, বাঁশ বাগানের পিছে অথবা আমি আর কিছু জানি না!