প্রযুক্তি আমাদের কি দিয়েছে? ভালো না খারাপ?

মোবাইলের রেডিয়েশনের কারণে ক্যান্সারে ঝুঁকি বাড়ে সেটা সবারই জানা। আচ্ছা, মোবাইল ফোন কি আমাদের এতটাই দরকার ছিল যে আমরা ক্যান্সারকেও বরণ করে নিতে পারি?

বিভিন্ন রকম অস্ত্র মুহূর্তেই হাজার হাজার জীবন কেড়ে নিচ্ছে। অস্ত্রীক নিরাপত্তা কি আমাদের এতই দরকার ছিল যে আমরা মরণঅস্ত্র তৈরি করেছি?

আমাদের খাওয়ার কথা ছিল গ্রীষ্মের গাছ পাকা আম। তা না করে আমরা কেমিকেল দিয়ে বোতলে ভরে সারা বছর খাওয়ার উপায় বের করেছি। আসলেই আমাদের সারাবছর আম খাওয়ার দরকার ছিল?

বিশ্বাস করুন, প্রযুক্তি আমাদের কখনোই ভালো কিছু উপহার দেয় নি। আমরা ভাবছি দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা আমাদের জীবনকে গতিময় করছে। কিন্তু না! প্রকৃতপক্ষে আমাদের জীবনের গতি বাড়িয়ে মৃত্যুকে কাছে এনে দিয়েছে।

যখন প্রযুক্তি ছিল না, তখন কি মানুষ বাঁচেনি? মানুষের মনে কি সুখ ছিল না?

আমরা জানি যে পোলিও-কলেরা টাইপের মরণ-ঘাতী ব্যাধি থেকে বাঁচার জন্য আবিষ্কৃত টিকা প্রযুক্তির অবদান।

অথচ, অতীতে মানুষের আয়ু বর্তমানের চাইতে অনেক বেশি ছিল। হয়তো আমরা নিজেরাও জানি না যে এক রোগের টিকা দিয়ে অন্য রোগ বাধিয়ে ফেলেছি! কারণ এমন কোন ওষুধ হতে পারে না যার কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।

পায়ে হাটা বাদ দিয়ে পৃথিবীর বুক চিরে তেল বের করছি গাড়ি চড়ার জন্যে। ভিতরটা যদি খালি করে দেই, উপরের কিছু কি ঠিকঠাক থাকবে? একদিন গাড়ি সহ ধপাস করে ভেঙে নিচে পরে যেতে হবে।

একদিন আমরা বুঝতে পারবো প্রযুক্তি আমাদের কি ক্ষতি করেছে। কিন্তু সেদিন সংশোধনের কোন উপায় থাকবে না।

ডায়নাসোরের মত বৃহৎ প্রাণী পৃথিবী থেকে হারিয়ে গেছে নিজেদের পৃথিবীর সাথে খাপ খাওয়াতে পারেনি বলে। আর পৃথিবীই একদিন হারিয়ে যাবে মানুষের সাথে খাপ খাওয়াতে পারবে না বলে।

পৃথিবীকে প্রায় “খেয়ে” দিয়ে আমরা বুদ্ধি খুঁজছি মঙ্গলে পালানোর। কিন্তু মঙ্গল কি আদৌ তার বোনের শত্রুদের নিজের বুকে স্থান দিবে?

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


Scroll to Top