এটা একটা অন্যরকম চটি গল্প। ইচ্ছে হলে পড়ে দেখতে পারেন। অবশ্যই গোপনে পরবেন যাতে কেউ জানতে না পারে আপনি চটি পরেন।
ফোনে একটা ছেলে আর একটা মেয়ে বন্ধুর কথোপকথন:
ছেলে: তুমি আজকে কি কি পরছ?
মেয়ে: থ্রি পিস
ছেলে: আর কিছু পরো নাই?
মেয়ে: পরছি তো।
ছেলে: কি কি?
মেয়ে: … (বাকি কথা গুলো না বুঝার কথা না)
আসলে যৌনতা জিনিষটা আমাদের নতুন প্রজন্মের মাথায় এমন ভাবে ঢুকে গেছে যেন আমরা এটা ছাড়া অন্য কিছু চিন্তাই করতে পারি। সবার সাথে, সব সময় এগুলা আমাদের মাথায় ঘুরতে থাকে। ব্যাপারটা হয়তো আমরা অনেকটা স্বাভাবিক ভাবেই নেই। আর এই স্বাভাবিক ভাবে নেয়াটাই অনেক সময় অস্বাভাবিকতার মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। মুখের কথা গুলো শেষমেশ আর মুখ পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকে না। ঘটনা গড়িয়ে যায় অনেক দূর…
আমি সত্যি প্রেমকে দোষ দিচ্ছি না… প্রেম, এইটা যেন এখন এক আবশ্যিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। না করলে হবেই না। প্রেমকে অনেকেই “Timepass” হিসেবে নিয়ে থাকে। কিন্তু প্রেম জিনিষটা কি আসলেই এমন ভাবে নেয়া উচিত? আর এটা কি আদৌ সময় কাটানো পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে নাকি জৈবিক কিছু চাহিদা মিটানোর জন্যেও এটা কাজে লাগে? আমি ছেলে কিংবা মেয়ে কাউকে একক ভাবে দোষ দিচ্ছি না। কারণ জোর পূর্বক এই রকম শারীরিক সম্পর্ক গুলো হয় না, অবশ্যই দুজনের ইচ্ছাতেই হয়। কারণ জৈবিক চাহিদা দুজনেরই আছে। জোরপূর্বক যেটা হয়, সেটা ধর্ষণ, Room date না!
যৌনতা মানুষের জৈবিক চাহিদা, কমবেশি সবারই এই চাহিদা আছে। আর থাকাটাই দরকার, না থাকাটা অবশ্যই একটা রোগ। তাই বলে যে চাহিদাটাকে এভাবে মিটাতে হবে, এটা তো ঠিক না! আমি গরিব ঘরের ছেলে, রাস্তায় লাল-নীল গাড়ি দেখলে একটা গাড়ির সখ আমার জাগতেই পারে। তাই বলে যে আমি অবৈধ ভাবে একটা গাড়ি কিনবো, সেটা নিশ্চয়ই ঠিক না?
ভুলের শুরুটা আমাদের পরিবার থেকে। আমরা জানি শিশু প্রথম শিক্ষা শুরু হয় পরিবার থেকে। যৌনতা নামের যেই জিনিষটা আমাদের জীবনের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত, আমরা সেই শিক্ষাটা কখনো ভালভাবে পাই না। কারণ ভদ্র নামের মানুষ গুলো আমাদের কাছে মুখ এই ব্যাপারটা নিয়ে মুখ খুলে না। ছিঃ ছিঃ, কি লজ্জার কথা! আমাদের কাছে মুখ খুলে আর শিক্ষা দেয় এমন কিছু মানুষ, যারা বলে “তোদের বয়সে আমি কত প্রেম করেছি! কত মেয়ের সাথে রাত্রে…” আর তাদের কথা শুনে নিজেকে ছোট মনে হয়, সে এত কিছু করল, আর আমি কিছুই করতে পারলাম না! কিন্তু বিশ্বাস করেন, এই ব্যাপারে শিক্ষাটা যদি আমরা পরিবার থেকে পেতাম, তাহলে আমরা এত খারাপ কখনই হতাম না।
জোর করে যৌন সম্পর্ক করলে আমরা তাকে ধর্ষণ বলি। সেই ঘটনা জানাজানি হয়, কখনো মেয়টা লজ্জায় আত্মহত্যা করে। এই দিক থেকে আমরা ভালো আছি যে আমাদের দেশে ধর্ষণ কম হয়। কিন্তু ধর্ষণের সংজ্ঞা যদি হতো অনৈতিক যৌন সম্পর্কই ধর্ষণ, আমার দেশের কত মেয়েকে যে ধর্ষিতা বলতে হতো, সেই পরিসংখ্যান দিয়ে আমাদের সমাজটাকে ছোট করতে ইচ্ছা করছে না। এরপরেও যদি কারো এই পরিসংখ্যানটা জানতে ইচ্ছা করে, আপনার পরিচিত কোন কলেজের অথবা ভার্সিটির ছাত্রকে তার কয়েকটা বান্ধবীর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেন, পেয়ে যাবেন আমাদের সমাজের কতটা মেয়ে…
সব শেষে একটা কথা, আমদের সমাজ হচ্ছে মধ্যবিত্ত লজ্জাশীল সমাজ। আমরা না পারি উন্মুক্ত যৌন সংস্কৃতি প্রদর্শন করতে, না পারি অনাকাঙ্ক্ষিত যৌনতা দমিয়ে রাখতে।
আমি জানি, এটাকে যদি চটি গল্প না বলতাম, এত বড় লেখাটা অনেকই কষ্ট করে পড়ত না। প্রথম প্যারাতে আমি যদি চটি টাইপের কথা না বলতাম, এতদূর কষ্ট করে পড়ার শক্তি অনেকেরই থাকতো না। কেন সেটা না হয় নাই বললাম…
(লেখাটা অনেক বড় ছিল, সংক্ষিপ্ত করতে গিয়ে খানিকটা এলোমেলো লাগতে পারে।)
(এইটা লেখাটা নিয়ে কারো দ্বিধা বিভক্তি থাকতে পারে, আমি শুধু আমার মতামত প্রকাশ করছি।)