বাতাসের দিকটা পরিবর্তিত হয়েছে। উত্তরের হিমালয়ের ঠাণ্ডা শীতল হাওয়া আসতে শুরু করেছে। উত্তরের এই হাওয়াটাই জানিয়ে দিচ্ছে শীতের আগমনের কথা। অনেক দিন থেকেই অপেক্ষায় ছিলাম আমার প্রিয় ঋতুর। কেন জানি শীতের সময়টাই আমার কাছে বেশি ভালো লাগে। বর্ষার বৃষ্টিকেও ভালো লাগে, অনেক সময় দ্বিধায় পরে যাই! কোনটা বেশি ভালো লাগে আমার শীত না বর্ষা? মনে হয় শীতটাই বেশি ভালো লাগে। খুব তাড়াতাড়ি সন্ধ্যা হয়ে যাওয়া, দেরিতে ঘুম থেকে উঠা এসব কিছুই দারুণ উপভোগ করি। ছোট বেলার একটা কথা এখন খুব মনে পরছে। আমরা তখন শীতের সকালে কুয়াশা খেতে বের হতাম! (তখনকার ভাবনা আর কি!) শিশিরে ভেজা নরম দূর্বার উপর দিয়ে হাঁটতে খুব ভালো লাগতো। এখন বড় হয়ে গেছি, সেগুলো আর করা হয় না। মন চায় সেই দিন গুলোতে ফিরে যাই, কেন যে বড় হয়ে গেলাম? আরও অনেক স্মৃতি আছে শীতের। আমরা সন্ধ্যায় সব বন্ধুরা মিলে আগুন ধরাতাম। আগুনের উপর দিয়ে লাফ দিতাম। সকালে বা দুপুরে যত্ন করে মাটি দিয়ে গুলি বানাতাম। তারপর সেগুলোকে আগুনে পোড়াতাম। আর বিকেলে সেগুলো নিয়ে বের হতাম বক শিকার করতে। কিন্তু আফসোস, এই পর্যন্ত একটা বকও আমার হাতে ধরা দেয় নি! শীতের ঈদ গুলোও খুব উপভোগ করতাম। আর এখন ঈদ হয় বর্ষায়। দুপুরের রোদটাকে দারুণ লাগতো! আব্বু আগে চট্টগ্রাম থাকতো, মাসে একবার আসতো। শীতকালে যখন আসতো, সকাল হোক আর বিকাল হোক রাস্তায় গিয়ে অপেক্ষা করতাম। আবার যাওয়ার সময় কুয়াশার চাদর ভেদ করে এগিয়ে দিতাম। খুব দারুণ লাগতো সেই অপেক্ষা আর বিদায়ের মুহূর্তগুলো! কি যেন একটা আনবে আমার জন্য! এখন আব্বু ঢাকায়, আমাদের সাথেই থাকে। এখন আর ভাল লাগে না আব্বুকে, খালি পড়া নিয়ে বক বক করে! কিন্তু কেন যে তারা বোঝে না, পড়ার বাইরেও একটা জগত আছে! ভালবাসি আব্বুকে, এটা যেন বুঝতেই চায় না! ওহ, শীত! শীত কালে আরেকটা কাজ করতাম। মাকড়সার জালের উপর পড়া শিশির দেখতাম ধরতাম, খুব ভাল লাগতো! কুকুর তো শীতকালে বাচ্চা দেয়। আমার একটা কুকুর ছিল, ওটা প্রতি শীতে বাচ্চা দিত আর আমরা বাচ্চা গুলোকে আদর করতাম। কিন্তু বেশিদিন ওদের আগলে রাখতে পারতাম না, কেউ না কেউ ওদের ফেলে দিত! খুব মিস করি আগের শীতগুলোকে, যদি ফিরে যেতে পারতাম!