হায়রে ঈদের পোশাক

ঈদ কাদের উৎসব? নিশ্চয়ই মুসলমানদের। এখনকার সময়ে ঈদের সময় সবচেয়ে বড় আকর্ষণ কি? নিশ্চয়ই সুন্দর পোশাক। ঠিক আছে, ঈদের দিন পরিষ্কার বা নতুন পোশাক পড়াটা সুন্নত। কিন্তু যেহেতু আমরা মুসলমান এবং এটা আমাদের সব চাইতে বড় ধর্মীয় উৎসব, আর পোশাকটা সেই উৎসবের জন্যই, সেহেতু আমাদের উচিত পোশাকটা যেন ধর্মের বিধিনিষেধের বাইরে না যায়। ইসলাম একটি পরিপূর্ণ ধর্ম। জীবনের প্রতিটি বিষয়ের উপর দিক নির্দেশনা ইসলামে আছে। পোশাকের ব্যাপারেও। বোরকা কিংবা জুব্বাকে আমি ইসলামি পোশাক বলে দাবি করছি না। পোশাকটা যেন এমন না হয় যাতে শরীরের গঠন বুঝা যায়। মানে আঁটসাঁট না হয়। কিন্তু আমরা কি দেখতে পাচ্ছি? পোশাক গুলো এতটাই আঁটসাঁট দেখলে মনে হয় যেন পোশাক চিরে শরীর উন্মুক্ত হয়ে যাবে। আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে ইসলাম কিন্তু অশ্লীলতার বিরোধী। কিন্তু পোশাক গুলোর ডিজাইন এমন ভাবে করা হয়, যেন অশ্লীলতার প্রদর্শনের জন্যই এই পোশাক। ছেলেদের প্যান্টের চেইনের উপর স্টিলের রকেট, আর মেয়েদের পোশাকের এমন সব জায়গায় পাথরের কাজ করা হয় যেন কারো দিকে তাকালে ঐখানেই আগে চোখ ফেলতে হবে! কি আজব! এগুলো ফেতনা ছাড়া কিছুই না। শয়তান আমদের আজ এমন ভাবে ধোঁকা দিচ্ছে আপনি চিন্তাও করতে পারবেন না। হয়তোবা আপনি আপনার প্রিয় কারো জন্য ঐ রকম একটা সুন্দর(!) পোশাক আপনি কিনেছেন, কিন্তু এই পোশাকের দিয়েই আপনি তাকে জাহান্নামের পথে এগিয়ে দিয়ে আসছেন। এমন একটা সময়ে আমারা পৌঁছেছি, যেখানে যদি কেউ পানিতে পরে যায়, এবং উঠতে না পারে, আমরা বলি কিছুই হবে না। এভাবে ততক্ষণ আমরা এই কথাই বলতে থাকি যতক্ষণ না সে ডুবে মারা যাচ্ছে। আরে এই পোশাকটা পরলে কি আর হবে, এইটা তো বিদেশিরা যা পরে তার চাইতে অনেক ভালো। আমরা ওদের সাথে তুলনা করি, কিন্তু ইসলামের বিধিনিষেধের সাথে কখনোই করি না। সব শেষ এটুকু বলতে চাই, ইসলামি অনুষ্ঠানটা ইসলামেই রাখুন। আর যদি একান্তই পোশাক প্রদর্শন করতে হয়, অন্য কোন দিন করুন। ঈদটাকে অপবিত্র করবেন না।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


Scroll to Top