ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ। কিন্তু কার? আপনার একার? প্রতিবারের মত এই ঈদের জন্যও ইতিমধ্যে হয়তো অনেক কিছু কেনার জন্য পরিকল্পনা করে ফেলেছেন, তাই না? যার বাজেট হাজার কিংবা লাখ টাকা। কিন্তু একবারও কি আপনার পাশের রাস্তায় তাকিয়ে দেখেছেন, যেখানে মাত্র ২০০ টাকার জন্য একটা শিশু ঈদ মানে কি সেটাই বুঝতে পারছে না! হতে পারে আপনার অনেক অর্থ আছে, যেখানে ২০০ টাকা কিছুই না। আমরা কি পারি না ওদের ঈদটাকে ঈদের মতই আনন্দময় করতে? সব সময়তো নিজেরটাই ভাবি, অন্যর জন্য কি একটু ভাবতে পারি না? যেই মুহূর্তে আমি লাখ টাকা দিয়ে স্ত্রীকে বা বান্ধবীকে উপহার দেয়ার জন্য কিছু একটা কিনছি, ঐ মুহূর্তে হয়তো কেউ কাঁদছে যে সে তার বোন বা মাকে এই ঈদে কিছুই দিতে পারল না। মাত্রতো কয়টা টাকার জন্য। আমার দেশে এখনো এমন লোক আছে, যারা সেহরিতে পানি খেয়ে রোজা রাখে আবার পানি দিয়েই ইফতার করে। অথচ আজ আমার বাসায় শত রকমের খাবার রান্না হচ্ছে, না খেতে পারলে ফেলে দিচ্ছি। কেন? আমরা কি পারি না কোন কোন একজনকে মাত্র এক রকমের খাবারের ব্যবস্থা করে দিতে? চাইলেই পারি। কিন্তু চাইব না। কেন জানেন? আমার কোটি টাকা থেকে ১ টাকা কাউকে দিলে আমার লাখ টাকা হয়ে যাবে। কিংবা এত কষ্ট করে উপার্জন করি কি অন্যর জন্য? ভাই, আমি তো আমার প্রয়োজনের অতিরিক্ত উপার্জন করেছি, ঐ লোকটা প্রয়োজনটুকু মেটাতে পারছে না। আমি একটু সাহায্য করলে আমার কি এমন ক্ষতি হবে? সবাই যদি সমান হতো, তবে জুতা কে সেলাই করতো? রাস্তা কে পরিষ্কার করতো? সে জন্যই আল্লাহ্ সবাইকে সমান উপার্জনের ক্ষমতা দেন নাই। আল্লাহ্ তো বলেই দিয়েছেন যে “ধনিদের সম্পদে দরিদ্রদের অধিকার আছে”। অধিকারটা হচ্ছে যাকাত। এর বাইরে যেটা আপনি দেবেন, সেটা দান। রমজান মাসে দান-খায়রাত করলে সত্তর গুন বেশি সওয়াব হয়। অন্তত সওয়াবের জন্য দান করুন। ঈদের দিন পরিষ্কার ও সুন্দর জামা পড়া সুন্নত। আসুন ভাই, অন্তত একজনকে এই আনন্দের উৎসবে সরিক করি। হয়তো বা আপনার একার পক্ষে একজনকেও কিছু দেয়া সম্ভব না, কিন্তু আপনার আশেপাশে যারা আছে, তাদেরকে আপনি একটু বললে তারাও আপনাকে সাহায্য করবে। এভাবে সবাই একসাথে কি আমরাই পারি না ঈদের দিনটা আনন্দময় করতে? পরিশেষে বলতে চাই, আপনার কাছে ২০ টাকা থাকলে আপনি ১০ টাকার কিছু খান, আর বাকি ১০ টাকা দিয়ে অসহায় মানুষ কে কিছু খাওয়ান। দেখুনতো শান্তি কোনটায় বেশি পাচ্ছেন? খেতে না খাওয়াতে?