যে মেয়েটা টাকার বিনিময়ে দেহ বিক্রি করে, শুনতে খারাপ লাগলেও আমি তাকে বেশ্যা বলবো। তবে ততক্ষন না পর্যন্ত খারাপ বলবো না, যতক্ষণ পর্যন্ত আমি না জানতে পারছি যে সে কেন এই কাজ করে। হয়তো এর পিছে কোন হৃদয় বিদারক ঘটনাও থাকতে পারে।
যে মেয়েটা খনিক সুখের আশায় পর পুরুষের কাছে যায়, আমি তাকে দুশ্চরিত্রা বলবো। বেশ্যাকে খারাপ না বললেও আমি এই মেয়েটাকে চোখ বন্ধ করে খারাপ বলবো, কারন আমি জানি সে অবশ্যই খারপ কাজ করছে। তার অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য। নিঃসন্দেহে সে একজন ঘৃনার পাত্র।
কিন্তু যে মেয়েটাকে কেউ ধর্ষন করেছে, আমি তাকে কোন ভাবেই ধর্ষিতা বলবো না। কারন, সে ইচ্ছে করে তো কিছু করে নি, তার উপর জোর করা হয়েছে, শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে। অনিচ্ছাকৃত কোন পাপ আল্লাহ ক্ষমা করে দেন, তাহলে আমরা কেন তার গুনে গুনান্বিত হয়ে সে কলঙ্ককে ভুলে যাবো না? কেন তাকে সমাজে সেই পুরনো স্থানটা দিবো না, যেখানে সে আগে ছিলো?
ধর্ষন কেন হয়, কিভাবে হয় সে ব্যাপারে কিছু জানতে চাই না, বলতে চাই না, তর্ক করতে চাই না। শুধু এটুকু তো আমরা নির্দিধায় বলতে পারি, যে ধর্ষন করে, সে একজন অপরাধী, একজন খারাপ লোক?
নির্দিষ্ট কোন তনুর হত্যার বিচার আমি চাইবো না। প্রতিদিনই কোন না কোন ধর্ষনের খবর শুনছি, পড়ছি, দেখছি। কয়টার বিচার চাইবো? তনুর টা যদি চাই তবে বাকিরা কি দোষ করেছে? কোনটারই বিচার চাইবো না।
যা চাইবো, তা হচ্ছে সত্যিকারের আইনের শাষন। বিচার পাওয়া আমাদের অধিকার, লিখিত অধিকার। এটা কেন আমাদের চেয়ে নিতে হবে?
হোক সেটা ধর্ষন, হোক সেটা হত্যা কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রত্যেকটা অপরাধের বিচার চাই, আইনের সঠিক প্রয়োগ চাই।
