টাকা নিলে বেশ্যা, আর দিলে জমিদার! পতিতা বা বেশ্যা আর যে তাদের কাছে যায়, এদের পার্থক্যটা যেন লেনদেনে, অন্য কিছুতে না। একটা মেয়ের এই শরীর ব্যবসায় নামার পিছনের ঘটনাটা বেশিরভাগ সময়েই খুব মর্মান্তিক হয়, যা আমাদের লোক চক্ষুর আড়ালে থাকে। আর আমরা তাকে চিনি বেশ্যা, পতিতা নামে! খুব কম মেয়েই আছে যারা ইচ্ছা করেই এই কাজে আসে। যে মেয়েটা কোন ফাঁদে পরে, অথবা অভাবের তাড়নায়, রোগাক্রান্ত বাবার চিকিৎসার টাকা যোগার করতে না পেরে অবশেষে কিছু স্বার্থান্বেষী, সুযোগসন্ধানী মানুষরূপী কুকুরের ভোগের বস্তু হয়, আমি তাকে খুব একটা দোষ দিব না। মেয়েরা স্বভাবতই মানসিক ও শারীরিক দিক থেকে ছেলেদের তুলনায় দুর্বল হয়। তাদের বিপদের সময় বলতে গেলে অনেকটা ইচ্ছা মত চালানো যায়। কিছু করতে বললে তাই করে ফেলে। তাই দোষের বড় অংশটা তার, যে এই অসহায় মেয়েটার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তাকে ব্যাবহার করল।
এই মেয়েটা কিছু টাকার জন্য, তার অস্তিত্ব পৃথিবীতে টিকিয়ে রাখার জন্য তার শরীর বিক্রি করে, কিন্তু যেই মেয়েটা এক চিলতে নোংরা বিনোদনের জন্য নিজের শরীরকে অকাতরে বিলিয়ে দেয় তাকে আমরা কি বলবো? বিলাসী? Free-minded? Hi-class?
একটা মেয়ে, তার দেহ বিক্রি করে এবং লোকজন তার ব্যাপারে জানে, সে বেশ্যা, আর যে পুরুষটা ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন জায়গায় এরকম অনেক মেয়ের কাছে যায়, তাকে কি বলবেন?
আমাদের সমাজে কিছু দুশ্চরিত্র পুরুষ না থাকলে কাউকে এমন পতিতা হতে হতো না। আরেকটা কথা, পতিতা বা বেশ্যা নামের ঘৃণিত শব্দটাও হয়তো কিছুদিন পর আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। কারণ আমরা তো এখন বাইরের দেশের উন্নত(!) সমাজকে অনুসরণ করে Open Culture বা উন্মুক্ত সমাজ তৈরি করছি। যেখানে এমন বেশ্যা পরিচয়ে কাউকে বাঁচতে হবে না। কারণ সেখানে চাইলেই যে কারো সাথে শরীরের চাহিদা মিটানো যাবে। এই পতিতাদের তখন আর দরকার পরবে না বা কেউ খুঁজবে না!
** কারো সাথে মিলে গেলে দুঃখিত, কাউকে হেয় করার জন্য না, বরং আমাদের সমাজের ভুলটা তুলে ধরতেই এই লেখা।
