মন

আগে যাচাই, পরে বিশ্বাস…

৩ মিনিট পড়া

বর্তমান সময়ে প্রেম-ভালবাসায় এত প্রতারণার প্রধান কারণ অগাধ বিশ্বাস। অনেকে বলে বিশ্বাস ছাড়া প্রেম হয় না। হ্যাঁ, কথাটা সত্য তবে একটা * চিহ্ন আছে। মানে শর্ত প্রযোজ্য। আপনি বিশ্বাস করবেন, কিন্তু কখন? যখন আপনি তার সম্পর্কে বিস্তারিত ভাল ভাবে জানবেন। এখন দেখা যায়, যে কেউ যে কাউকে প্রস্তাব দিলেই প্রেম শুরু হয়ে যায়। আর দুই দিন প্রেম করার আগেই বলতে থাকে ও আমাকে অনেক বিশ্বাস করে, ভালবাসে!! আসলে আগে আপনার জানা দরকার যে আপনি যার সাথে প্রেম করতেছেন, সে আগে কারো সাথে প্রেম করতো কিনা, যদি করে থাকে তবে তার সাথে কেন সম্পর্ক ভাঙল, কিভাবে ভাঙল, সে আগের জন কে কতটুকু ভালবাসত ইত্যাদি। যদি শুনেন যে আগে প্রেম করতো, এবং দুষ্টামি করে প্রেম করেছে, তবে সে যে আপনার সাথে দুষ্টামি করবে না তার কি গ্যারান্টি আছে? আবার যদি দেখেন যে আগের জন কে খুব ভালবাসত, কিন্তু অন্য জন তাকে ছেড়ে চলে গেছে, তাহলে সে আগে যাকে ভালবাসত তাকে যেটুকু ভালবাসা দিয়েছে তা আপনাকে দিতে পারবে কিনা? ইত্যাদি। আর আগে যদি প্রেম না করে থাকে, তবে কাউকে ভালবাসত কিনা (প্রেম আর ভালবাসা এক না), ভালবাসলে কতটুকু বাসত তা আপনাকে মাথায় রাখতে হবে। আবার যদি প্রস্তাব পাওয়ার পর প্রেমের জন্য আপনার বান্ধবীরা উৎসাহ দেয় বা আপনার কোন বিশেষ বান্ধবীর বিশেষ আগ্রহ দেখেন, তবে? তবে ঐ বান্ধবীর কথায় প্ররোচিত হবেন না। কারণ তাকে দালাল হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আবার যদি কোন বান্ধবী তার খুব প্রশংসা করে এবং আপনারও তাকে ভালো লাগে, তবে তার কথা যাচাই করুন। যখন কেউ আপনার প্রেমে পরবে, সে নিজেকে আপনার কাছে সুপার হিরো হিসেবে উপস্থাপন কররে চেষ্টা করবে। এসব সামলে নিন, তার বর্তমান রূপ না, অতীত টা সম্পর্কে ভাবুন। আসল মানুষটা চিনতে পারবেন। এবার আসি প্রেম পর্যায়ে! যদি দেখেন দুই দিন পরই আপনার সাথে অস্বাভাবিক কথা বলছে, মানে শারীরিক সম্পর্কে উৎসাহ দিচ্ছে বা শারীরিক সম্পর্কে নানা ধরনর কথা বলছে তখন কি করবেন? নিশ্চিত ধরে নিন তার উদ্দেশ্য আর কিছুই না, শুধু আপনার শরীরটা পাওয়া, মনটাকে না। কিংবা আপনাকে চুমু দিতে বা নিতে চাচ্ছে তখন? আসলে প্রেমে এগুলো থাকবেই। কিন্তু এভাবে না যে, “জানু, আমি তোমাকে একটা চুমু দেই বা আমাকে একটা দাও”!! যখন আপনারা তেমন কোন মুহূর্তে চলে যাবেন, তখন বলে নিতে হবে না, এমনিতেই এসব হয়ে যাবে। আসলে এভাবে চেয়ে নেয়াটা ভুয়া প্রেমের একটা লক্ষণ। ধরুন, আপনি তাকে ফোন দিতেছেন তুমি কোথায়, বলল ব্যস্ত আছি, পরে ফোন দিও বা ফোনটা অনেকক্ষণ ধরে ধরছে না। কিন্তু আপনার মন বলছে ও ব্যস্ত না কিংবা ধরুন, আপনি ওর ফোন অনেকক্ষণ ধরে ব্যস্ত বা বন্ধ। আর আপনি জিজ্ঞেস করার পর সে বলল মামার সাথে কথা বলিতেছিলাম বা চার্জ ছিল না। কিন্তু আপনার মন বলছে যে ও অন্য কার সাথে কথা বলিতেছিল, তাহলে একটু যাচাই করে নিন আসল ঘটনা কি। আপনি বিশ্বাস করেন আর নাই করেন, আপনি যাকে সত্যিই ভালবাসেন, তার ব্যাপারে অনেক কিছুই অনুমান করার ক্ষমতা আপনার আছে। আবার আপনি তাকে সন্দেহ করে কিছু জিজ্ঞেস করার পর যদি সে খুব বেশি খেপে যায়, আর বলে যে তুমি আমাকে এত অবিশ্বাস কর? যাও আমি তোমার সাথে আর সম্পর্কই রাখব না, তাহলে ধরে নিন এখানেও ঘাপলা আছে। যে সত্যিই ভালোবেসে প্রেম করে, তার মুখে সম্পর্ক রাখব না এটা বের হওয়াটাও খুব কষ্টের। যদি সত্যি ভালবাসত তবে কথাটা এমন হত যে, “তুমি আমায় অবিশ্বাস কর? ঠিক আছে, চল প্রমাণ দেখ”। আর এমন ভাবে যদি প্রমাণ দেখাতে চায়, সেই সুযোগ টা হারাবেন না, প্রমাণটা দেখে নিন। নয়তো ঘাপলা!! আর প্রমাণ দেখাতে গিয়ে যদি থেমে যায়, তবে কি ভাববেন? আর যদি প্রমাণ হিসেবে কোন বন্ধুকে সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করে? জীবনেও বিশ্বাস করবেন না! বন্ধুটা যতই ভাল হোক, তার কথা বিশ্বাস করা আপনার জন্য বোকামি। একাটা বন্ধু আরেক বন্ধুর জন্য হাজারটা মিথ্যা কথা বলতে পারে। আর যদি প্রমাণ করতে পারে, তবে তবে ভুল স্বীকার করে নিন। সম্পর্কটা মজবুত হবে। মোটকথা সন্দেহ রাখবেন আর সুযোগ পেলেই যাচাই করবেন। তাহলেই প্রেম করে সার্থক করতে পারবেন।

নিউজলেটার

নতুন লেখা ইমেইলে পান

মাইন্ডট্রিপ ও রাডার, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। যেকোনো সময় আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

Newsletter signup

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


Scroll to Top