জিহাদের মৃত্যু বড় কিছু না, তবে…

দুর্ঘটনা এমন একটা জিনিষ, যা কখনোই আপনি এড়াতে পারবেন না। দুর্ঘটনা যেকোনো সময়ই ঘটতে পারে। প্রতিদিনই তো কত দুর্ঘটনা ঘটে আর তাতে কত মানুষ মারা যায়। সেদিন না হয় একটা শিশুই দুর্ঘটনায় মারা গেছে, তাতে এত কথা কেন? কারণ দুর্ঘটনাটা একটু অন্য ভাবে ঘটেছে। পরিত্যক্ত পানির পাইপে পড়ে। এই শিশুটা মারা যাওয়া দেশের জনগণের কাছে (শিশুটির পরিবারের কাছে নয়) খুব বড় কিছু না হলেও এই দুর্ঘটনার পরের ঘটনাগুলো দেশের মানুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেখুন, মাত্র একটা শিশু পাইপে পরেছে আর আমাদের ফায়ার সার্ভিসের লোকজন তাকেই উদ্ধার করতে পারলো না, এখন যদি একটা ভূমিকম্প হয় তাহলে এত লাখ লাখ মানুষকে কি করে উদ্ধার করবে? বড় পরিসরে ভূমিকম্পের কথা বাদ দিলাম অতীতের একটা অভিজ্ঞতাই দেখুন না, সাভারের রানা প্লাজা। এরা যদি ঠিকমত উদ্ধার করতে পারত, তবে সেখান থেকে আরও অনেকেই বেঁচে ফিরতে পারত। আরেকটা বিষয় হচ্ছে আমরা অধিকাংশই আনাড়ি বিধায় সবাইকেই আনাড়ি ভাবি। জিহাদের ঘটনায় অনেক অনেক দর্শক ছিল, যাদের ভীরে যেই কয়জন প্রথমেই জিহাদকে উদ্ধার করার জন্য চেয়েছিল, তাদেরকেও কর্তৃপক্ষ আনাড়ি দর্শক মনে করে ফিরিয়ে দিয়েছে। আর দ্বিতীয় বিষয়টা হচ্ছে, তাদের এত অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যাবহার করেও (যদিও দায়িত্ব এড়ানোর জন্য সেসে বলা হয়েছে যে একেবারে সাধারণ যন্ত্রপাতি ব্যাবহার করা হয়েছে) জিহাদকে সনাক্ত করা সম্ভব হল না, শেষমেশ দেশের প্রযুক্তিরই জয় হল। এ থেকে দেখা যায় যে আমাদের দেশীও প্রযুক্তি কিন্তু খারাপ না, সব যন্ত্রপাতি যে বিদেশ থেকেই আনতে হবে এমনও না, আমরা চাইলে সেগুলো দেশেই কিন্তু তৈরি করতে পারি।

আমরা বাঙালিরা ভাল জিনিষের ক্রেডিটটা খুব বেশি নিতে পারি, কিন্তু খারাপ কিছুর দোষটা নিতে চাই না। প্রতিমন্ত্রী কি বললেন, “এখানে কিছু নেই, আমরা সিউর”। তখন মনে হচ্ছিল, দেশে কিন্তু গুম নামের জিনিসটা আসলেই বেড়েছে। যদি প্রতিমন্ত্রী গুম হয় আর মন্ত্রী সবই গুজব বলে উদ্ধার কাজ বন্ধ করে দেয় তাহলে প্রতিমন্ত্রী উনি বুঝত যে এই আজব ধরেনর গুজবের মজাটা কি! কিন্তু যদি ফায়ার সার্ভিস জিহাদকে উদ্ধার করতে পারত কে কি বলত সেটা মোটামুটি সবারই জানা আছে, আমিই সব তদারকি করেছি, আমি এটা করেছি, আমি অটা করেছি ইত্যাদি… আবার উদ্ধার কাজ আনুষ্ঠানিক ভাবে শেষ করার পরেও তারা বলে কি, সীমিত করা হয়েছে! মানে যত যাই হোক চেষ্টা করেছি তো সবই আমার! হ্যাঁ, হতে পারে তারা ব্যর্থ সেটা স্বীকার করতে অসুবিধা কোথায়? মানুষের সীমাবদ্ধতা থাকাটাই স্বাভাবিক। শেষমেশ ইচ্ছে করছে খুব ছোট একটা বিষয় দেখাই।

ভাল যেকোনো কিছু যেই করুক, সবই আমি করেছি এটা বলা আমাদের সবার স্বভাব! আর খারাপের বেলায় বিপরীত!

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


Scroll to Top