আমার হাই স্কুলে (রাড়িখাল স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু ইন্সটিটিউশন ও কলেজ) আজ বিজ্ঞান মেলা ছিল। যদিও, যেহেতু আমি আর এখন আর এই স্কুলের ছাত্র না, তাই আমকে কিছু জানান হয়নি। তবুও নিজের ইচ্ছা থেকেই গতকাল স্যারকে ফোন দিলাম, কারণ এধরনের বিষয় আমায় আকর্ষণ করে আর কখনও কোন বিজ্ঞান মেলায় আমার অংশগ্রহণ করা হয়নি। ফোন দিতেই স্যার বলল তোমার কথাই ভাবছিলাম, কোন আইডিয়া আছে? আমি হ্যাঁ বলেই তাড়াতাড়ি চলে গেলাম স্যারের কাছে। দেখি তারা বেশ কয়েকটা প্রকল্প তৈরি করেছে, কিন্তু একেবারেও করার জন্য করা আর কি! স্যার কে আমার আইডিয়ার কথা জানালাম, স্যার রাজি হল না। বলল তাদের বাজেট অলরেডি শেষ! অনেকটা বিষণ্ণ মনেই ফিরেছিলাম, চিন্তা করছিলাম যে আমরা থাকলে অবশ্যই জয়ী হতাম। বাসায় এসে রেফ্রিজারেটর ইঞ্জিনিয়ার এক বন্ধুকে মেলার কথা জানালাম, ও বলল তাহলে তো আমরাই ছোট কিন্তু ভাল কিছু তৈরি করে দিতে পারি। ওর কথা মত একটা আইডিয়া বললাম ওকে, গ্রিন পাওয়ার। যেখানে বায়ো গ্যাস থাকবে, সোলার প্যানেল থাকবে আর উয়িন্ড মিল থাকবে। এমন একটা গ্রাম, যেখানে বিদ্যুতের পুরো চাহিদা নবায়ন যোগ্য শক্তি থেকে নেয়া হবে। কিন্তু মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এমন একটা জিনিষ তৈরি করা সম্ভব না যার কারণে ও আমাকে একটা মডেল তৈরি করে দিল। আজকে সেটা নিয়েই দুজনে মেলায় গেলাম, স্যারকে সব কিছু বুঝিয়ে দিলাম। মেলায় থাকতে পারিনি কারণ আমার নির্বাচনী পরীক্ষা চলছে। প্রকল্পটা স্যারকে বুঝিয়ে দিয়েই কলেজে গিয়ে দেখি অলরেডি আধঘণ্টা দেরি হয়ে গেছে। অবশ্য পরীক্ষা নিয়ে খুব একটা টেনশনও ছিল না, সাদা খাতা জমা দেয়া ছাড়া কন উপায় নেই। যেই ভাবা সেই কাজ, অল্প কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর দিয়ে চলে আসলাম মেলায়। এক বন্ধুকে আগে থেকেই মেলায় আসতে বলেছিলাম। কিন্তু মেলায় গিয়ে দেখি আরও অনেকে এসেছে। সবার সাথেই বেশ আনন্দ উপভোগ করলাম। কিন্তু খারাপ লাগলো যখন দেখলাম যে আমাদের প্রকল্প কিছুই হয়নি! হবেই বা কিভাবে? খারাপের সাথে থাকলে কি আর কেউ ভাল বলে? দুপুরে অনেকটা মন খারাপ করেই বাসায় চলে আসলাম। একটা টেনশন ছিল, আজ এত্ত এত্ত দুষ্টামি করেছি, এখন মনে হচ্ছে যে এত দুষ্টামি করা মোটেই ঠিক হয়নি!